প্রমিত বাংলার সংকট ও ঔপনিবেশিক ভাষানীতি: একটি পর্যালোচনা

Published: 17 February 2025| Version 1 | DOI: 10.17632/3ksxz84d6s.1
Contributor:
Md Siddique Hossain Md Siddique Hossain

Description

সারসংক্ষেপ: প্রমিত বাংলা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। এই গবেষণায় বিশ্লেষণ করা হয়েছে, কীভাবে ঔপনিবেশিক পরিসরে বাংলা ভাষার সংকট প্রমিত বাংলার জটিলতাকে গভীর করেছে। উনিশ শতকের বাংলা গদ্যের মান্যরূপ জনসাধারণ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল, যা সামাজিক শ্রেণি ও ভাষানীতির দ্বন্দ্বকে উন্মোচিত করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও অন্যান্য ভাষাতাত্ত্বিকদের বিশ্লেষণের আলোকে এই প্রবন্ধে দেখানো হয়েছে, কীভাবে ভাষার পরিবর্তনশীল প্রকৃতি, বহুভাষিক প্রভাব ও ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রমিত বাংলার রূপ নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে। সূচকশব্দ: প্রমিত বাংলা, ঔপনিবেশিক ভাষানীতি, বাংলা গদ্য, ভাষার পরিবর্তন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভূমিকা: বাংলা ভাষা তার বহুমাত্রিক প্রকৃতি ও ঐতিহাসিক বিবর্তনের কারণে বিভিন্ন সময় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। বিশেষত প্রমিত বাংলার গঠন ও তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। কলকাতা ও ঢাকার মতো দুটি পৃথক ভাষাকেন্দ্র এবং বহুভাষিক বাস্তবতায় বাংলা ভাষার রূপ নির্ধারণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ঔপনিবেশিক যুগে বাংলা ভাষার ওপর সংস্কৃত ও ইংরেজির একচেটিয়া আধিপত্য বাংলা গদ্যকে এক বিশেষ রূপে প্রাতিষ্ঠানিক করেছে, যা পরবর্তী সময়ে প্রমিত বাংলার সংজ্ঞা নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করেছে।

Files

Steps to reproduce

উপভাষার প্রসার ও প্রমিত রূপের চ্যালেঞ্জ: বাংলা ভাষার বিভিন্ন উপভাষা ক্রমাগত প্রসার লাভ করছে, যা প্রমিত বাংলার সংজ্ঞাকে আরও অস্পষ্ট করে তুলছে। আঞ্চলিক ভাষার জনপ্রিয়তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনও প্রমিত বাংলার স্বীকৃত কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলছে। সর্বজনীন ভাষার ধারণা ও মান ভাষার প্রস্তাবনা : ‘মান ভাষা’ বা ‘প্রমিত ভাষা’ শব্দবন্ধ রবীন্দ্রনাথ নিজে ব্যবহার করেননি, তবে তাঁর বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, তিনি বাংলা ভাষার একটি সর্বজনীন রূপ গঠনের পক্ষে ছিলেন। এই ধারণার প্রথম প্রস্তাবক ছিলেন শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায় (১৯৯০)। পবিত্র সরকারের মতে, এটি ছিল “সাহিত্যের ভাষা হিসেবে চলতি বাংলাকে গ্রহণ করার প্রথম সুস্পষ্ট প্রস্তাব” (পবিত্র ১৯৯৯: ১০)। শ্যামাচরণ মূলত শিক্ষিত বাঙালির মুখের ভাষাকে লেখার ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। তিনি ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞতা টেনে এনে দেখান যে, সেখানকার উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিদের ভাষা সাধারণ মানুষের ভাষার কাছাকাছি থাকে (Ganguli 1990: 25)। শ্যামাচরণ কেবল কলকাতার ভদ্র সমাজের ভাষাকে নয়, বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষিত মানুষের মুখের ভাষাকেও বিবেচনায় এনেছিলেন (Ganguli 1990: 27)। তিনি মনে করতেন, শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় মুখের ভাষার ব্যবহার করলে বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর সর্বোত্তম উপকার হবে। তাঁর মতে, সর্বজনীন বোধগম্যতা অর্জন করাই ভাষার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। উপসংহার: বাংলা ভাষার প্রমিত রূপ নির্ধারণ এক বহুমাত্রিক এবং বিতর্কিত বিষয়। ঔপনিবেশিক প্রভাব, সমাজের শ্রেণিভিত্তিক বিভাজন, ভাষার পরিবর্তনশীলতা এবং বহুভাষিক বাস্তবতা এই সংকটকে গভীরতর করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভাষার সহজতা ও ব্যবহারিক দিককে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যা বাংলা গদ্যের চলিত রীতির প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়েছিল। আধুনিক সময়ে বহুভাষিক চ্যালেঞ্জ ও প্রযুক্তির প্রভাব বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ রূপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলা ভাষার প্রমিত রূপের সংজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, যাতে তা পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ থাকে এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ভাষারূপকে অন্তর্ভুক্ত করে।

Institutions

  • Bangabasi Morning College

Categories

Literature, Literature Review, Research Article

Licence